জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
নিউইয়র্ক, ২ জুন ২০২৬: আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক অর্জন করল বাংলাদেশ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ ভোটে তিনি ৯৯টি ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস পেয়েছেন ৯১টি ভোট।
অল্প সময়ের মধ্যে বিশাল অর্জন
এবারের নির্বাচনটি বাংলাদেশের জন্য ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। সাধারণত কয়েক বছর ধরে এই পদের প্রস্তুতি নেওয়া হয়, যেখানে সাইপ্রাস ২০১৬ সাল থেকেই তাদের প্রচারণায় ছিল। তবে বাংলাদেশ মাত্র তিন মাসের সীমিত সময় হাতে রেখেও এক কৌশলগত ও সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচারণা চালিয়েছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে পাঁচ বছরের সমপরিমাণ কূটনৈতিক তৎপরতা সম্পন্ন করাকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।
বিজয়ের নেপথ্যে তিন মূল কারিগর
এই গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যের পেছনে তিনটি প্রধান বিষয়কে মূল ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে:
১. প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব: স্বল্প সময়ে প্রার্থিতা নিয়ে দৃঢ় অবস্থান এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এই নির্বাচনী প্রচারণায় গতি সঞ্চার করেন। তিনি ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাহসী কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সাফল্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে দলের মধ্যে জয়ের আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলেন।
২. সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে একটি সমন্বিত টিম কাজ করেছে। নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের কূটনৈতিক মিশনগুলো অত্যন্ত সক্রিয় ও কৌশলগত প্রচারণা চালিয়েছে।
৩. প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা: জাতিসংঘে দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, নীতি নির্ধারণে গভীর জ্ঞান এবং গত ১৩ মে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ ডায়ালগ’-এ উপস্থাপিত ভিশন স্টেটমেন্ট বিশ্ব নেতাদের কাছে ড. খলিলুর রহমানকে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
বৈশ্বিক এজেন্ডায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার
নির্বাচিত হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। এই বিজয় বহুপাক্ষিক কূটনীতি, শান্তি ও উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। ড. খলিলুর রহমান তার প্রচারণায় জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থ, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়ন, জাতিসংঘের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং ‘বৈশ্বিক দক্ষিণের’ (Global South) কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন।
এর আগে ১৯৮৬ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে জাতিসংঘের ৪১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দীর্ঘ ৪০ বছর পর বাংলাদেশ আবারও এই মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক ফোরামের নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছে।