জুয়ার দেনা শোধে ‘মৃত’ বানাল জীবিত মাকে, বিক্রি করে দিল বসতভিটাসহ ২১ শতক জমি
নান্দাইল প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের নান্দাইলে জুয়ার টাকা জোগাড় করতে জীবিত মাকে মৃত দেখিয়ে পৈতৃক বসতভিটাসহ ২১ শতক জমি বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রামে। অভিযুক্ত ছেলে আব্দুল জলিল ওই গ্রামের মৃত জমসেদ আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল জলিল দীর্ঘদিন ধরে জুয়ায় আসক্ত। জুয়ার দেনা মেটাতে সম্প্রতি তিনি তার মা রহিমা খাতুনের পৈতৃক সম্পত্তির দিকে নজর দেন। কিন্তু মা জীবিত থাকায় জমি বিক্রি করতে সম্মতি দেবেন না—এমন আশঙ্কায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি তাকে মৃত দেখিয়ে বসতভিটাসহ ২১ শতক জমি প্রতিবেশী মজিবুর রহমানের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
সম্প্রতি ক্রেতা মজিবুর রহমান লোকজন নিয়ে ওই বাড়ি, পুকুর ও পানের বরজ দখলে নিতে গেলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর ভুক্তভোগী পরিবার নান্দাইল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে ১১৫৪ ও ১১৫৫ নম্বর দলিলের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করে। এতে কথিত জালিয়াতির বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় বলে পরিবারের দাবি।
ওই দলিলে একই গ্রামের হোসেন মিয়া সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন এবং দলিলটি সম্পাদন করেন দলিল লেখক ঝন্টু সরকার।
সরেজমিনে রাজাবাড়িয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দলিলে যাকে মৃত দেখিয়ে জমি বিক্রি করা হয়েছে, সেই বৃদ্ধা রহিমা খাতুন জীবিত অবস্থায় বাড়ির সামনেই বসে আছেন।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রহিমা খাতুন বলেন, “আমি অহনও মরছি না, জলিল কেরে আমারে মরা বানাইয়া জমি বেচছে? আমি এইডার কঠিন বিচার চাই।”
জীবিত মাকে মৃত দেখিয়ে জমি বিক্রির অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল জলিল, ক্রেতা মজিবুর রহমান, সাক্ষী হোসেন মিয়া ও দলিল লেখক ঝন্টু সরকারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।