অনলাইন জুয়া লেনদেন ঘিরে দুপচাঁচিয়ায় পিন্টু আকন্দ অপহরণ ও প্রাণনাশ: তদন্তে নতুন তথ্য
দুপচাঁচিয়ায় আলোচিত পিন্টু আকন্দের অপহরণ-হত্যা: অনলাইন জুয়া লেনদেন ঘিরে দ্বন্দ্বের জট খুলছে
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ব্যবসায়ী পিন্টু আকন্দকে অপহরণ করে প্রাণনাশের ঘটনায় ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে ঘটনার পেছনের কারণ। পুলিশের অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনলাইনে জুয়া খেলার মুদ্রা ও সফটওয়্যার কেনাবেচা সংক্রান্ত প্রায় ১০ লাখ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন মাইক্রোবাস চালক সানোয়ার, সাকিব, এনামুল ও বাবলু মিয়া। এর মধ্যে এনামুল ও বাবলু মিয়া আদালতে ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর দুইজন সানোয়ার ও সাকিব পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তবে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীরা এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে।
পুলিশের তথ্যমতে, পিন্টু আকন্দকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আদমদিঘী উপজেলার একটি সড়ক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলেও মাইক্রোবাসসহ চালককে আটক করা সম্ভব হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তি ও তদন্তে উঠে এসেছে, নিহত পিন্টু আকন্দের ঘনিষ্ঠ পরিচিত জুয়েল ও সজিবের সঙ্গে অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত লেনদেন চলছিল। বিট কয়েন ও জুয়া অ্যাপ–সফটওয়্যার কেনাবেচা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আর্থিক বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিস বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি, যা শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ পরিণতির দিকে গড়ায়।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক মূল আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শিহাবুল্লাহ মারুফ, বগুড়া