চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচন: মেয়র প্রার্থী হিসেবে তুমুল আলোচনায় জেলা বিএনপি নেতা আক্তারুজ্জামান আক্তার
বিশেষ প্রতিবেদক, চুয়াডাঙ্গা
আসন্ন চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে বইছে আগাম হাওয়া। সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যানার, ফেস্টুন আর গণসংযোগে মুখরিত রাজপথ থেকে পাড়া-মহল্লা। এবারের নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আক্তারুজ্জামান আক্তার মেয়র প্রার্থী হিসেবে সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনায় উঠে এসেছেন। তৃণমূলের সমর্থন এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝেও তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের উদ্দীপনা।
তৃণমূলের আস্থা ও জনপ্রিয়তায় এগিয়ে
স্থানীয় সূত্র জানায়, আক্তারুজ্জামান আক্তার দীর্ঘদিন ধরে চুয়াডাঙ্গার সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে রয়েছেন। করোনাকালীন সংকট থেকে শুরু করে যেকোনো সামাজিক ও মানবিক বিপর্যয়ে তার অবদান চুয়াডাঙ্গাবাসীর নজর কেড়েছে। বিশেষ করে বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মামলা-হামলায় পাশে দাঁড়িয়ে তিনি দলে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছেন। সাধারণ ভোটারদের মতে, তিনি একজন সৎ, মার্জিত ও উন্নয়নমুখী ব্যক্তিত্ব, যা একজন আদর্শ পৌর অভিভাবকের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
পৌরবাসীর প্রত্যাশা ও নাগরিক ভাবনা
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার একাধিক ভোটারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও চুয়াডাঙ্গায় এখনো জলাবদ্ধতা, যানজট এবং পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি রয়েছে। তরুণ ভোটাররা এমন একজন মেয়র চান যিনি আধুনিক ও স্মার্ট পৌরসভা গঠনে ভূমিকা রাখবেন। আক্তারুজ্জামান আক্তারের অনুসারী ও স্থানীয় যুবসমাজের দাবি, চুয়াডাঙ্গাকে একটি মাদকমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিক বান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতে তার কোনো বিকল্প নেই।
দলীয় সমীকরণ ও জয়ের সম্ভাবনা
জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের একাংশের মতে, আক্তারুজ্জামান আক্তার চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং তার একটি নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে। দল যদি নির্বাচনে অংশ নেয় এবং তাকে ধানের শীষের প্রার্থী করা হয়, তবে দলের ভেদাভেদ ভুলে সর্বস্তরের নেতাকর্মী একযোগে মাঠে নামবেন। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে তার জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মেয়র প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আক্তারুজ্জামান আক্তার বলেন, “আমি পদের জন্য রাজনীতি করি না, চুয়াডাঙ্গার মানুষের সেবার জন্য রাজনীতি করি। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তবে আমি নির্বাচন করব। আর নির্বাচিত হতে পারলে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলব।”
নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, আক্তারুজ্জামান আক্তারকে ঘিরে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণ ততই জোরালো হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গার রাজনৈতিক ভাগ্যের শিকে কার হাতে ওঠে।