জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ
আ ম ম আরিফ বিল্লাহ
২৫ মার্চ ১৯৭১ সাল,
চট্টগ্রাম সেনানিবাস
গর্জে উঠলো শার্দুল সিপাহসালার
বগুড়ার ‘কমল’ পদ্মপ্রসূত দামাল
শৌর্য বীর্যে সৈনিক রাতুল কামাল
সপ্তর্ষীমন্ডলের আলোকচ্ছটায়
মাঠে ময়দানে বিজনবনে গায়
পাখি তারি গান।
ভোরের ভাস্কর
সাজায় বাসর
বলাকারা পত পথ উড়ে আকাশে
কদম্ব হাসনাহেনার সুবাস বাতাসে
মিনার থেকে ভেসে আসে আল্লাহু আকবার
ছুটে চলে দিকে দিকে সারা বাংলায় হানাদার!!
কিংকর্তব্যবিমূঢ় ! ছাত্র জনতা আবাল বৃদ্ধ বনিতা
উঠে শোড়! গড়ে তোলো ইস্পাত-কঠিন একতা
পশ্চিম পাকিস্তানীরা ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে
ক্ষমতা হস্তান্তর হবে না, দেখা যাক কি ঘটে
একের পর এক টালবাহানার নেই কোন শেষ
একি প্রশ্ন কোথায় স্বাধীনতা, কোথায় বাংলাদেশ?
সমগ্র জাতি চেয়েছিল!
আসছে ৭ ই মার্চ:
মুজিবের ভাষণ।
মুজিবের তর্জন গর্জন শেষে ধ্বনিত হলো:
জয় বাংলা! জয় পাকিস্তান!
অন্তঃসারশূন্য এ ভাষণ
নেই স্বাধীনতার সুস্পষ্ট উচ্চারণ
উপস্থিত ছাত্র বিপ্লবী জনতা বিস্মিত
দেশ ও দেশের মাটি ও মানুষ স্তম্ভিত।
নাটকের দ্বিতীয় দৃশ্য, মঞ্চস্থ হলো ইন্টার কন্টিনেন্টালে
হোটেলও বিস্মিত! মুজিব-ইয়াহিয়া ভুট্টোর ডামাডোলে!
আরাম আয়েশ মাস্তি চললো তিনদিন
চলি গেলো ওরা বাজিয়ে নাগিন বীণ
আহম্মক মুজিব স্বভাবে ভোলা ভালা
হৃদয়ঙ্গম হলো না কিছুই হৃদয়ে তালা।
আলোচনার ছলে রণসাজে আসে সোয়াত
বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা ঘিরে বন্দর হতেই প্রভাত
হানাদারদের গুলিতে শহীদ জনতা সৈয়দপুরে
বুকে রক্তের ঢেকুর তুলে বলে:
স্বাধীনতার ঘোষণা কত দূরে?
হায়! দেশের মানুষ আজ বড় অসহায়
দিকনির্দেশনা নেই চারিদিকে হায় হায়!!
২৫ মার্চের কালোরাতে অপারেশন সার্চ লাইট
রাইফেল হাতে শোনিতস্নাত পথে লেফট রাইট
নিথর দেহ বুলেটে লোটে বহে রক্তধারা
রাজপথে দিকবিদিক ছোটে দিশেহারা
সারাদেশে হত্য খুনের পিপাসায় হানাদার
কোথাও কেউ নেই দিকে দিকে হাহাকার!
মুজিবের সেই কন্ঠ আজিকে কোথায়?
আওয়ামী লীগের দর্প আজিকে কোথায়?
কোথায় হারিয়ে গেল ৭ ই মার্চের গর্জন
যেন এ ছিল মুজিবের বেঈমানি প্রহসন!
ভুট্টো ইয়াহিয়া মুজিবের ত্রিশুল পণ:
মুজিব আয় আমরা রচিবো বৃন্দাবন।
বাকি আলাপ হবে পশ্চিম পাকিস্তানে বসে
স্বাধীনতার হৈচৈ যাবে বানের জলে ভেসে।
তাজউদ্দিনকে ভাগিয়ে দিয়ে গোছায় ছুটকিছ
হুজুগে বাঙ্গালী কিছুই বুঝলো না মুজিব কি চিজ!
ব্যাগ হাতে চলে মুজিব পাক ফৌজের সাথে
যেন রাঁধা কৃষ্ণ মজে ভাবে বৃন্দাবনের পথে।
চারিদিকে চলছে বুলেট গুড়ুম গুড়ুম
ঝড়ছে লাশ পথে প্রান্তরে দুরুম দুরুম
গণহত্যায় মেতে উঠে পাক হানাদার
কোটি জনতা প্রহর গূনছে স্বাধীনতার।
হায়! এ কোন পরাভব! এ কোন বিভিষিকা
আকাশে নেই নক্ষত্র নেই ছায়াপথ নিহারিকা
কিংকর্তব্যবিমূঢ় সাড়ে সাত কোটি জনতা
যেন কোথাও কেউ নেই! নেই কোনো নেতা।
২৫ মার্চ রাত্রির প্রথম প্রহরে
ফোটে কমল দড়িয়া কহরে
শুরু হয় অপারেশন চট্টগ্রাম সেনানিবাসে
মৌমাছিরা সুর তোলে মনোরম বাতাসে
এই তো জেগেছে শার্দুল
এবার শত্রু হবে নির্মূল।
ততোক্ষণে জানজুয়া জিয়ার হাতে বন্দী
বিদ্রোহী জিয়া! হবে না কোনো সন্ধি !
২৫ মার্চ রাত্রির দ্বিতীয় প্রহর।
তখন ২৬ মার্চের প্রথম প্রহর।
মেজর জিয়ার বজ্রকণ্ঠে ঘোষিত হলো:
“উই রিভোল্ট”
শুরু হলো মুক্তি যুদ্ধ!
স্বাধীনতা যুদ্ধ!
নেতৃত্ব শুন্যতা ঘুচে গেলো।
প্রতিক্ষিত স্বাধীনতার ঘোষণা এলো
নয় মাস যুদ্ধের পর পেলাম স্বাধীনতা
স্বাধীন বাংলাদেশ।
মেজর জিয়ার প্রিয় সঙ্গীতে আজো বাজে
জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ
বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ।
আ ম ম আরিফ বিল্লাহ