আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৪ মে, ২০২৬
ভারতের মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের গ্বালিয়র বেঞ্চে এক নজিরবিহীন ও বিচিত্র পারিবারিক মামলা সামনে এসেছে। নিজেদের মধ্যে ‘স্বামী পরিবর্তন’ করার অদ্ভুত দাবি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন দুই সহোদর বোন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় মহলে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
যেভাবে ঘটনার শুরু:
মামলার সূত্রপাত হয় দতিয়া জেলার এক ব্যক্তির দায়ের করা একটি ‘হেবিয়াস কর্পাস’ আবেদনের মাধ্যমে। ওই ব্যক্তির অভিযোগ ছিল, তার ভায়রাভাই (বোনের স্বামী) তার স্ত্রী ও কন্যাকে অপহরণ করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত পুলিশকে নির্দেশ দেয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে আদালতে হাজির করতে।
আদালতে নাটকীয় জবানবন্দি:
আদালতে হাজির করার পর কথিত ‘অপহৃতা’ নারী যা জানান, তাতে সবাই চমকে যান। তিনি দাবি করেন:
তাকে কেউ অপহরণ করেনি, বরং তিনি স্বেচ্ছায় নিজের বোনের স্বামীর কাছে চলে গেছেন এবং তার সাথেই থাকতে চান।
নিজের স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তিনি ইতিমধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও করেছেন।
নাটকীয়তা আরও বাড়ে যখন ওই ব্যক্তির অপর বোনও (যিনি অভিযুক্তের স্ত্রী ছিলেন) আদালতে একই সুর মেলান। তিনিও সাফ জানিয়ে দেন, তিনি তার বর্তমান স্বামীর সঙ্গে থাকতে চান না এবং অন্য বোনের স্বামীর সঙ্গে থাকতেই বেশি আগ্রহী। এক পর্যায়ে দুই বোনই আদালতের কাছে আবেদন করেন যেন তাদের স্বামী অদলবদলের বিষয়টি আইনি স্বীকৃতি পায়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ:
মামলায় জড়িত সকল পক্ষই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আদালত বিষয়টিকে ভিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। বিচারপতি মন্তব্য করেন:
”এটি কোনো ফৌজদারি বা অপহরণের মামলা নয়, বরং এটি একটি জটিল পারিবারিক বিরোধ।”
আদালত জানায়, যেহেতু সবাই প্রাপ্তবয়স্ক, তাই তারা চাইলে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এই জীবনসঙ্গী পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এটি আদালতের মাধ্যমে সমাধানযোগ্য বিষয় নয় বলে জানিয়ে হেবিয়াস কর্পাস মামলাটি খারিজ করে দেন গ্বালিয়র বেঞ্চ।