নিজস্ব প্রতিবেদক, গাবতলী | ১৫ মে, ২০২৬
বগুড়ার গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাকিব হাসানের নির্দেশে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা চোর চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে চুরিকৃত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত ১৪ মে ২০২৬ তারিখ সকাল ১০:৩০ ঘটিকায় গাবতলী পৌরসভার কলেজপাড়া এলাকায় জনৈক কাজী হাফিজুর রহমানের ভাড়া বাসায় চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাতনামা চোরেরা জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে প্রায় ৫ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার নিয়ে চম্পট দেয়। এ ঘটনায় গাবতলী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্তে নামে।
যেভাবে চলল অভিযান
মামলা রুজুর পর ওসি রাকিব হাসানের তত্ত্বাবধানে গোয়েন্দা তথ্য ও আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় চোর শনাক্তে মাঠে নামে পুলিশ। ১৫ মে দিবাগত রাত ০৪:০০ ঘটিকায় বগুড়া শহরের ফুলপট্টি এলাকায় অবস্থিত ‘আমীর গেস্ট হাউজ’ হোটেলের ৬১৩ নম্বর রুমে অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত মোঃ বিশু আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে বিশুর দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শেরপুর থানার গাড়ীদহ কুঠিরভিটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার সহযোগী মোঃ তুহিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরিচয়
১. মোঃ বিশু আহমেদ (২৮): পিতা- মৃত মতিয়ার রহমান, সাং- কলম মহিষ্মারি, সিংড়া, নাটোর। (বর্তমান ঠিকানা: গাড়ীদহ কুঠিরভিটা, শেরপুর, বগুড়া)।
২. মোঃ তুহিন (২৮): পিতা- মোঃ ফরহাদ হোসেন, সাং- গাড়ীদহ কুঠিরভিটা, শেরপুর, বগুড়া।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত বিশু আহমেদ একজন পেশাদার চোর। তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও বগুড়া সদর ও গাইবান্ধা সদর থানায় একাধিক চুরির মামলা রয়েছে।
উদ্ধারকৃত মালামাল
আসামিদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকারের একটি বড় অংশ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
০১টি স্বর্ণের হার (ওজন: ১৫ আনা)
০১টি স্বর্ণের হার (ওজন: ৫ আনা ৪ রতি)
০১ জোড়া স্বর্ণের কানের দুল (ওজন: ৩ আনা ৫ রতি)
০১ জোড়া স্বর্ণের কানের রিং (ওজন: ১ আনা)
পুলিশের বক্তব্য
গাবতলী মডেল থানার ওসি রাকিব হাসান জানান, চুরির অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু করি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার এবং মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। জনস্বার্থে অপরাধ দমনে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে।