দুই পক্ষের গ্রুপিংয়ের জেরে স্কুলের কমিটি স্থগিত:
সংকটে শিক্ষার পরিবেশ
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো জ্ঞান অর্জনের পবিত্র স্থান। এখানে শিক্ষার্থীরা আসে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সাম্প্রতিক সময়ে বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়ন বেড়েবাড়ী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্বে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। দুই পক্ষের তীব্র গ্রুপিং এবং আধিপত্য বিস্তারের জেরে শেষ পর্যন্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়ের বর্তমান কমিটি স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে।
যেকোনো বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য একটি দক্ষ ও সুসংহত ম্যানেজিং কমিটি অপরিহার্য। শিক্ষক নিয়োগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে এই কমিটির ভূমিকা থাকে প্রধান। কিন্তু যখন সেই কমিটির সদস্য পদ বা নেতৃত্ব নিয়ে দুটি পক্ষ নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়, তখন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন থমকে দাঁড়ায়। এই স্থগিতাদেশের ফলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে এক ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এই ধরনের গ্রুপিংয়ের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কমিটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল যখন প্রকাশ্য রূপ নেয়, তখন বিদ্যালয়ের সার্বিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। শিক্ষকদের মধ্যেও গ্রুপিংয়ের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে, যা শ্রেণিকক্ষের পাঠদানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিক্ষাদানের চেয়ে যখন দলাদলি প্রধান হয়ে ওঠে, তখন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং অভিভাবকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।
শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি বা ক্ষমতার মহড়া বন্ধ হওয়া এখন সময়ের দাবি। বিদ্যালয়ের কমিটি কোনো রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন বা ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানোর মঞ্চ হতে পারে না। স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের উচিত দ্রুত এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা। একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চলমান দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে অতি দ্রুত একটি এডহক কমিটি বা বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা জরুরি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় ধুনট উপজেলা যুবদলের সাংগাঠনিক সম্পাদক মনিবুর রহমানের ছেলে ও তার ক্যাডার বারমিস দিয়ে ইউনিয়ন যুবদলের নেতা রেজাউল করিমকে আঘাত করে, এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে হয়েছে।
আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট উভয় পক্ষ নিজেদের ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করবেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সব ধরনের সংকীর্ণ রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখে পুনরায় সেখানে শিক্ষার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক এবং যোগ্য ব্যক্তিকে কমিটিতে নিয়ে আসাহক —এটাই এলাকার সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা।