প্রস্রাবের অপবিত্রতা অবহেলা করলে ভয়াবহ পরিণতির সতর্কবার্তা
ইসলামে পবিত্রতা শুধু ইবাদতের পূর্বশর্তই নয়, বরং এটি মুসলমানের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। আল্লাহ তাআলা পবিত্র মানুষকে ভালোবাসেন, আর অশুদ্ধ অবস্থায় ইবাদত গ্রহণযোগ্য হয় না। তাই গোসল, অজু ও পরিচ্ছন্নতার নিয়মগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মানা জরুরি।
হাদিসে উল্লেখ আছে—অজু করার সময় দেহের অঙ্গ ধোয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছোট-বড় নানা গুনাহ ঝরে যায়। মুখ ধোয়ার মাধ্যমে চোখের মাধ্যমে সংঘটিত গুনাহ দূর হয়, হাত ধোয়ার মাধ্যমে হাত দিয়ে হওয়া গুনাহ মাফ হয়ে যায়। ধীরে ধীরে মানুষ পাপমুক্ত হয়ে পরিশুদ্ধ অবস্থায় দাঁড়ায়।
আরও একটি সুন্নত হলো—যে কোনো ভালো কাজ বা পরিচ্ছন্নতার কাজ ডান দিক থেকে শুরু করা। নবী করিম (সা.) চুল আঁচড়ানো, পোশাক পরা থেকে শুরু করে সব পরিচ্ছন্নতার কাজে ডান দিককে অগ্রাধিকার দিতেন।
প্রস্রাবের সময় অসতর্কতা — বড় গুনাহের কারণ
অনেকেই টয়লেটে বা খোলা জায়গায় প্রস্রাব করার সময় সতর্ক থাকেন না। শরীরে নাপাকি লাগা, কাপড়ে ছিটে যাওয়া বা পরিচ্ছন্নতা না মানা—এসব বিষয় ইসলামে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
হাদিসে এসেছে—স্থির পানিতে প্রস্রাব করা নিষিদ্ধ। কারণ এতে পানি অপবিত্র হয় এবং অন্যের জন্য কষ্টের কারণ তৈরি হয়। আবার প্রস্রাব-পায়খানার সময় ডান হাত ব্যবহার করারও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
অসতর্কতার জন্য কবরের শাস্তি—হাদিসের কঠোর সতর্কবার্তা
ইবনু আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন—একবার দুই ব্যক্তির কবরের সামনে দিয়ে অতিক্রম করার সময় নবীজি (সা.) জানান, তারা কবর আজাবে ভুগছে। তাদের একজন প্রস্রাবের নাপাকি থেকে সাবধানতা অবলম্বন করত না, আরেকজন মানুষের মধ্যে কুৎসা রটানো নিয়ে ব্যস্ত থাকত।
মানুষের নজরে এগুলো তেমন বড় অপরাধ না হলেও আল্লাহর কাছে এগুলোর শাস্তি অত্যন্ত কঠিন—এমনটাই সতর্ক করেছেন তিনি। পরবর্তীতে নবীজি (সা.) একটি খেজুর ডাল ভেঙে দুই কবরে রাখেন এবং আশা করেন—ডাল শুকানো পর্যন্ত তাদের আজাব কিছুটা হালকা হবে।
পরিচ্ছন্নতা—শরীর, মনের ও ঈমানের অংশ
ইসলাম পরিচ্ছন্নতাকে শুধু শারীরিক বিষয় হিসেবে নয়, বরং ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, টয়লেট ব্যবহারের নিয়ম, অজু, গোসল—এসব বিষয়ের প্রতি অবহেলা করলে নামাজ কবুল না হওয়ার পাশাপাশি ভয়াবহ পরিণতিও হতে পারে—হাদিসে এমন স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়।