বগুড়ায় নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের পথ প্রশস্ত: আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা
নিজস্ব প্রতিবেদক | বগুড়া
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বগুড়ায় নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। শাজাহানপুর উপজেলার জামালপুর মৌজায় ক্যাম্পাস স্থাপনের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণের আবেদন জমা পড়েছে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে। এই খবরে স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বইছে আনন্দের জোয়ার।
ভূমি অধিগ্রহণে আবেদনের অগ্রগতি
বিশ্ববিদ্যালয়টির সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহদী হাসান গত ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বগুড়ার জেলা প্রশাসকের কাছে ভূমি অধিগ্রহণের আবেদন জমা দেন। প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়কালে যে স্থানটি নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেখানেই শেষ পর্যন্ত স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর প্রত্যাশা
দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের পথে এ ধরনের অগ্রগতি বগুড়ার শিক্ষাঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা অত্যন্ত আশাবাদী।
যা বললেন উপাচার্য
২০২৫ সালের ৩ জুন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. কুদরত-ই-জাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রাথমিকভাবে দুটি বিভাগে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে উপাচার্য মো. কুদরত-ই-জাহান বলেন, “বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এটিকে পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে আইনটি এখনো আমাদের হাতে আসেনি। আইন হাতে পাওয়ার পর বিস্তারিত পরিকল্পনা জানা যাবে।” তিনি আরও জানান, চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া সাপেক্ষে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে বড় পরিসরে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
প্রেক্ষাপট
বর্তমানে দেশে ৫৮টি পাবলিক এবং ১১৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ১০৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব আইন ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০’-এর অধীনে পরিচালিত হয়। ২০২৪ সালের শেষের দিকে নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এটি বগুড়া তথা উত্তরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহল।