দায়িত্বের অধ্যায় শেষে নতুন জীবনের প্রত্যাশা—বিদায়ী বার্তায় ছাত্রদল সভাপতি রাকিব
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘদিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের পর নতুন জীবনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিব। এক আবেগঘন বিদায়ী বার্তায় তিনি মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করে দায়িত্ব পালনে সহযোগিতাকারী বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বার্তায় রাকিব বলেন, মহান রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমতে অত্যন্ত সম্মান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে জীবনের একটি শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে। দীর্ঘ সময় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃবৃন্দের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ঢাকার পাঁচ কলেজ ও চার মহানগরের নেতাকর্মীদের রাজপথের কর্মসূচি সফল করতে ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান।
বিদায়ী বার্তায় ছাত্রদল সভাপতি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনকালে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের সঙ্গে নিজ নিজ ইউনিট পরিচালনা করেছেন। তাদের নেতৃত্বে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিরোনাম না হওয়াকে তিনি নিজের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি ক্যাম্পাসে ইতিবাচক ছাত্র রাজনীতির বিকাশে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা করেছেন। কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী যেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার না হন, সে বিষয়ে তিনি বিশেষভাবে মনোযোগী ছিলেন। দল-মত নির্বিশেষে শিক্ষার্থীরা কোনো সমস্যায় তার কাছে এলে নিজের অবস্থান থেকে সমাধানের চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে রাকিব বলেন, রাকিব-নাসির কমিটির অন্যতম প্রধান সফলতা ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি প্রণয়ন এবং রাজপথে কার্যকর ভূমিকা পালন। ৫ আগস্ট ২০২৪-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নানা সমালোচনা-বুলিং উপেক্ষা করে নেতৃত্ব দেওয়ার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, “একটা নতুন জীবন শুরু করতে চাই। নিজেকে আরও বেশি পরিশুদ্ধ, মানবিক ও সৎ মানুষ হিসেবে গড়তে চাই।” দায়িত্ব পালনকালে নিজের কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
পরিশেষে ছাত্রদলের আসন্ন নতুন কমিটিকে সবাই সাদরে গ্রহণ করবেন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি আমৃত্যু গর্বিত থাকবেন।
বার্তার শেষে তিনি “বাংলাদেশ জিন্দাবাদ” স্লোগান দিয়ে দায়িত্বের অধ্যায়ের সমাপ্তির কথা জানান।