নিজস্ব প্রতিবেদক, নন্দীগ্রাম:
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বীরপলি বাজার এলাকায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে গ্লাস দিয়ে নিজের শরীর ক্ষতবিক্ষত করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন মোছাঃ মুক্তারা খাতুন (৩২) নামে এক নারী। সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নন্দীগ্রামের ধুন্দার বাজার এলাকার প্রবাসী মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী মুক্তারা খাতুনের সাথে নাটোরের সিংড়া উপজেলার জিয়াপাড়া গ্রামের সোহরাব হোসেনের (৪২) দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। সোহরাব বর্তমানে নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকার জনতা মার্কেটে ব্যবসা করেন।
সোমবার মুক্তারা খাতুন সোহরাবের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। এতে সোহরাব অস্বীকৃতি জানিয়ে তালবাহানা শুরু করলে ক্ষিপ্ত হয়ে মুক্তারা দোকানের গ্লাস দিয়ে নিজের শরীরে আঘাত করতে থাকেন। এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত প্রেমিক সোহরাব কৌশলে পালিয়ে যান।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মুক্তারা খাতুনের স্বামী জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে আক্রান্ত। অসুস্থ স্বামীর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মুক্তারা শর্ত দিয়েছিলেন যে, সম্পত্তি ও নগদ টাকা তার নামে লিখে দিলে তিনি স্বামীকে কিডনি দান করবেন।
স্ত্রীর কথায় বিশ্বাস করে জাহাঙ্গীর আলম তার জমি ও অর্থ মুক্তারার নামে লিখে দেন। কিন্তু সম্পদ হাতে পাওয়ার পর মুক্তারা কিডনি না দিয়ে সেই অর্থ নিয়ে প্রেমিক সোহরাবের সাথে মেতে ওঠেন। স্বামীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে সমস্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।