কেন্দ্রীয় লটারি ও মূল ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও দেশের সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলোতে এক অদ্ভুত চিত্র দেখা যাচ্ছে। একদিকে প্রায় ৮ লাখ আসন শূন্য পড়ে আছে, অন্যদিকে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুযোগ না পেয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী এখনো ভর্তির অপেক্ষায় দিন গুনছে।
|
প্রতিষ্ঠানের ধরন |
মোট আসন |
আবেদন জমা |
ভর্তি হয়েছে |
শূন্য আসন |
|---|---|---|---|---|
|
সরকারি স্কুল |
১,২১,৫৯৬টি |
৭,১৯,৮৫৮টি |
১,০৭,৫২১ জন |
১৪,০৭৫টি |
|
বেসরকারি স্কুল |
১০,৭২,৯১৭টি |
৩,৩৬,১৯৬টি |
শিক্ষা গবেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির মূল কারণ ‘নামি স্কুলের’ প্রতি অভিভাবকদের অতিরিক্ত ঝোঁক। অভিভাবকরা সবাই তাদের সন্তানকে নির্দিষ্ট কিছু নামকরা স্কুলে ভর্তি করতে চান। ফলে:
অভিভাবক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের আক্ষেপ, একাধিক স্কুলে আবেদন করেও লটারিতে সুযোগ না মেলায় এবং মানসম্মত বিকল্প স্কুল না পাওয়ায় তার সন্তান এখনো ভর্তি হতে পারেনি।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিচালক অধ্যাপক মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানিয়েছেন, শূন্য আসন পূরণের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। যারা এখনো ভর্তি হতে পারেনি, তাদের জন্য সুযোগ এখনো শেষ হয়ে যায়নি।
ভর্তির নিয়মাবলী:
১. অপেক্ষমাণ তালিকা (Waiting List): প্রথমে স্কুলগুলো তাদের বিদ্যমান অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করাবে।
২. স্থানীয় লটারি: যদি অপেক্ষমাণ তালিকায় কেউ না থাকে এবং নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন করে, তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ মাউশি ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) প্রতিনিধির উপস্থিতিতে স্থানীয়ভাবে লটারি আয়োজন করবে।
৩. স্বচ্ছতা: লটারি ছাড়া কোনোভাবেই সরাসরি শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না।
৪. কর্তৃপক্ষ: এই প্রক্রিয়াটি মূলত সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষই পরিচালনা করবে।
গুরুত্বপূর্ণ নোট: যেসব স্কুলে আসন ফাঁকা আছে, সেখানে অভিভাবকরা সরাসরি যোগাযোগ করে লটারির মাধ্যমে ভর্তির প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে পারবেন।