বগুড়ার উন্নয়নে রেলপথ, বিমানবন্দর, সিটি করপোরেশন ও শিল্প পার্ক—বড় পরিকল্পনার কথা জানালেন এমপি বাদশা
বগুড়া প্রতিনিধি
বগুড়ার চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ রেজাউল করিম বাদশা। বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ, বিমানবন্দর, সিটি করপোরেশন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, স্পোর্টস ভিলেজ, শিল্প পার্ক, স্বাস্থ্যসেবা ও যানজট নিরসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
এমপি বাদশা জানান, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কাজ চলছে। চলতি বছরের মধ্যেই প্রকল্পটির নির্মাণকাজ উদ্বোধন করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রম ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। বড় আকারের উন্নয়ন বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে এবং সামনে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।
বগুড়া বিমানবন্দর নিয়ে এমপি বাদশা জানান, আগামী ডিসেম্বর নাগাদ বিমানবন্দরের উন্নয়নকাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বগুড়ায় ড্রোন তৈরির কাজ এবং অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী জানুয়ারির মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু এবং পাইলট প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বগুড়ার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টিকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম বেগম খালেদা জিয়ার নামে করার দাবি উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দাবির পক্ষে জনসমর্থন রয়েছে। মহানগরের একটি নির্দিষ্ট ও নিরাপদ স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক ক্যাম্পাস বগুড়া মহানগরের কৈগাড়ী এলাকার পুরোনো উপজেলা পরিষদ ভবনে স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান সংসদ সদস্য।
স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণে প্রায় ১৩ একর জমি প্রয়োজন উল্লেখ করে এমপি বাদশা বলেন, তিনমাথা এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ২০ একর জমি রয়েছে। সেখানে স্পোর্টস ভিলেজসহ প্রয়োজনীয় স্থাপনা গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে কৈচড় ও কাহালুর কিছু এলাকা নিয়ে প্রায় ৪৫০ একর জমিতে আধুনিক শিল্প পার্ক স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কাজ করেছে এবং পরবর্তী সময়ে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানান তিনি।
শহরের মধ্য দিয়ে যাওয়া বর্তমান রেলপথ নিয়েও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন এমপি বাদশা। শহরের ভেতরের রেলপথ বাইপাস করা হবে নাকি উড়ালসেতু নির্মাণ করা হবে, তা নির্ধারণে সমীক্ষা চলছে। ব্যয় ও জনসুবিধা বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বগুড়া শহরের যানজট নিরসনে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও হকারদের বিষয়ে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে হঠাৎ করে রিকশা বন্ধ করা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন। তবে সাতমাথা, থানা মোড়, ঝাউতলা, সার্কিট হাউস ও কোর্ট চত্বরের সামনে হকার বসতে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
যানজট কমাতে করতোয়া নদীর পূর্ব পাড় দিয়ে বিকল্প সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান সংসদ সদস্য। নদীর পূর্ব পাশে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। পাশাপাশি করতোয়া নদী খনন, তীর সংরক্ষণ, ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং বনানী থেকে মাটিডালী পর্যন্ত নতুন সড়ক নির্মাণের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান।
নদীর ওপর থাকা ঝুঁকিপূর্ণ দুটি বেইলি সেতুর পরিবর্তে আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
শহরের যানজট কমাতে পাইকারি আড়তগুলো স্থানান্তরের উদ্যোগের কথাও জানান এমপি বাদশা। রাজা বাজার এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে রাতে মালামাল ওঠানামা শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। সড়ক দখল করে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলেও উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ চলছে বলে জানান তিনি। নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে রয়েছে এবং এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন পাওয়া গেছে। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের ওষুধের চাহিদা পূরণে এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানির নতুন ইউনিট চালুর প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানান তিনি।
বগুড়া বিভাগ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে রেজাউল করিম বাদশা বলেন, এ অঞ্চলের পাঁচ জেলার সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের মধ্যে বগুড়াকে বিভাগ করার পক্ষে মত রয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সরকারি পর্যায়ে এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি বলে জানান তিনি।
সবশেষে বগুড়ার সামগ্রিক উন্নয়নে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা। উন্নত, সমৃদ্ধ ও পরিকল্পিত বগুড়া গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
তথ্যসূত্র: বক্তব্যভিত্তিক প্রতিবেদন
Bogura Vision 24